একটি নতুন বিষয় শুরু: মুনাফিকরা

আয়াত ৮ 

“মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করি,’ অথচ তারা [একেবারেই] মুমিন নয়।” এটা স্পষ্ট করে যে নিছক মৌখিক স্বীকৃতি, নিজে থেকে, ঈমান নয়।

আট নম্বর আয়াত থেকে পরবর্তী আয়াতগুলো মুনাফিকদের সম্পর্কে। মজার বিষয় হলো, আমরা এখন যে আয়াতগুলো পড়ব সেখানে মুনাফিকী বা “মুনাফিক” শব্দটির কোনো উল্লেখ নেই। সেখানে আমরা “নিফাক” বা “মুনাফিক” শব্দ পাব না। কিন্তু ইমাম আত-তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মুফাসসিরগণ একমত যে এই আয়াতগুলো সেসব মুনাফিক সম্পর্কে যারা নিজেদের কুফরি গোপন রাখে এবং মুখে ইসলাম ঘোষণা করে। এটি একটি খুব সরল সংজ্ঞা। এরপর আমরা ইনশাআল্লাহ বিস্তারিতভাবে এটি দেখব।

মুনাফিকী (নিফাক): সবচেয়ে খারাপ শ্রেণি

মুনাফিকী তখন ঘটে যখন একজন মানুষ  জিহ্বায় আল্লাহ, আখিরাত, এবং নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রতি বিশ্বাস ঘোষণা করে অথচ অন্তরে ইসলামের প্রতি অবিশ্বাস, সন্দেহ, বা সক্রিয় শত্রুতা পোষণ করে।অথবা সে এসব কাজ উপহাসচ্ছলে করে —  আবার কখনো দাবি করে “না না, আমি মুসলিম, আমি তো মজা করছিলাম।” এটা কুফরের সবচেয়ে খারাপ শ্রেণি ঠিক এই কারণে যে এটা গোপন রাখা হয়।

মুনাফিকী বোঝা কেন গুরুত্বপূর্ণ

মুনাফিক হলো এমন ব্যক্তি যে তার অন্তরের কুফর গোপন রাখে। ফলে আপনি স্পষ্টভাবে তাকে কাফির বলতে পারবেন না। আপনি তাকে কাফির হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবেন না। কিন্তু তার বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে আপনাকে তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এই ব্যক্তি ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণেই আল্লাহ তা’আলা মুনাফিকদের বিভিন্ন লক্ষণ বর্ণনা করেছেন। কারণ কোনো ব্যক্তি মুনাফিক — এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। সে তো মুসলিম বলে দাবি করে। কিন্তু আপনি সতর্ক থাকতে পারেন। মুসলিমরা কুরআন ও হাদীসে উল্লেখিত তার লক্ষণগুলো দেখে মুনাফিকের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, আমাদের মধ্যে যেন মুনাফিকীর কোনো বৈশিষ্ট্য বা মুনাফিকদের কোনো বৈশিষ্ট্য না থাকে।

মুনাফিকীর দুটি শ্রেণি

ইবনুল কাইয়িম এবং ইবনে রজব উভয়েই মুনাফিকীকে দুটি স্বতন্ত্র শ্রেণিতে বিভক্ত করে বর্ণনা করেন। মুনাফিকী দুই প্রকার: বড় মুনাফিকী বা বিশ্বাসগত মুনাফিকী, এবং ছোট মুনাফিকী বা আমলগত মুনাফিকী। 

বড় মুনাফিকী বা বিশ্বাসগত মুনাফিকী (নিফাকুল ইতিকাদ — আকীদাগত মুনাফিকী):

মুনাফিকী কুফরের সবচেয়ে নিকৃষ্ট শ্রেণি। তাহলে বড় মুনাফিকী বা বিশ্বাসগত মুনাফিকী কোনটি? যা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে স্থায়ী অবস্থান নির্ধারণ করে। অর্থাৎ, যদি কোনো ব্যক্তি মুসলিমদের কাছে ঘোষণা করে যে সে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, আল্লাহর কিতাব ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করে, কিন্তু অন্তরে সে এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও এগুলোকে অস্বীকার করে, অর্থাৎ অন্তরে তার এসবের প্রতি ঈমান নেই।

ইবনে রজব অনুরূপ সংজ্ঞা দিয়ে তাতে সামান্য যোগ করেছেন যে, এই বড় বিশ্বাসগত মুনাফিকী হলো সেই মুনাফিকী যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে বিদ্যমান ছিল এবং কুরআন নাযিল হয়েছিল এর অধিকারীদের নিন্দা করতে ও তাদেরকে কাফির ঘোষণা করতে, এবং কুরআন বলেছে যে তারা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।

আলিমগণ বলেছেন যে বিশ্বাসগত মুনাফিকী ছয়টি বিষয়ের মাধ্যমে সংঘটিত হয়:

১-২. রাসূল ﷺ-এর প্রতি অবিশ্বাস, বা তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি অবিশ্বাস।

৩-৪. রাসূল ﷺ-এর প্রতি ঘৃণা, বা তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঘৃণা (তাঁর শরীয়তের কোনো উপাদান অপছন্দ করা)।

৫-৬. রাসূলের ﷺ ধর্ম পরাজয় বরণ করলে আনন্দিত হওয়া; তাঁর ধর্ম বিজয়ী হলে অপছন্দ করা।যখন সে ইসলামের পরাজয় দেখে, ইসলামের অবমাননা দেখে, তখন সে খুশি হয়। কিন্তু ইসলাম জিতলে, মুসলিমরা জিতলে, সে তা অপছন্দ করে।

এই আয়াতটি মুনাফিকী সম্পর্কে এটাই বলে-

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করি,’ কিন্তু তারা মুমিন নয়” (২ : ৮) 

“নিশ্চয় মুনাফিকরা আগুনের সর্বনিম্ন গভীরতায় থাকবে।”(৪ : ১৪৫)

“আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও নারী এবং কাফেরদেরকে জাহান্নামের আগুনের ওয়াদা করেছেন – সেখানে অনন্তকাল তারা থাকবে! [জাহান্নামের আগুনই শাস্তি হিসেবে] তাদের জন্য যথেষ্ট! আর আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় রহমত থেকে বিতাড়িত করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি।”৯ : ৬৮

এটি কোন মুনাফিক? বিশ্বাসগত মুনাফিকী নাকি আমলগত মুনাফিকী? বিশ্বাসগত মুনাফিকী। তাদের মধ্যে যাদের বিশ্বাসগত মুনাফিকী আছে, অর্থাৎ যাদের অন্তরে কুফর আছে এবং মোটেই ঈমান নেই |

যদি কোনো মুনাফিক তার অন্তরে বিদ্যমান কুফর প্রকাশ না করে, তবে সে বাহ্যিকভাবে মুসলিম গণ্য হয় এবং তার সঙ্গে মুসলিমের মতোই আচরণ করা হয়। সে মুসলিম সমাজে বাস করে, মুসলিমকে বিয়ে করে, এবং মারা গেলে মুসলিমরাই তার জানাযা পড়ায় ও দাফন করে — কারণ তার অন্তর দেখা সম্ভব নয় এবং আল্লাহ তা’আলা আমাদের এই নির্দেশ দেননি। কিন্তু এই বাহ্যিক ঈমানের ঘোষণা অনিবার্যভাবে বোঝায় না যে অন্তরে ঈমান আছে। অর্থাৎ সে মুখে ঘোষণা করছে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে তার অন্তরে সত্যিই ঈমান আছে। কিন্তু আমাদের তার সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত? যে বাহ্যিকভাবে ইসলাম ঘোষণা করে এবং তার কুফর গোপন রাখে — আমরা তার সঙ্গে মুসলিমের মতোই আচরণ করব।

ছোট মুনাফিকী (নিফাকুল আমাল — কর্মগত মুনাফিকী)

ছোট মুনাফিকী বা আমলগত মুনাফিকী- এ ব্যাপারে আমাদের একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সাধারণত আমরা মুসলিম, আমাদের মধ্যে হয়তো বড় মুনাফিকী নেই। কিন্তু ছোট মুনাফিকী বা আমলগত মুনাফিকী আছে, যা বড় মুনাফিকীর দিকে নিয়ে যেতে পারে। সেটি কী? তা হলো ভেতর ও বাহিরের অবস্থার মধ্যে অমিল। এটাই এই মুনাফিকীর সারকথা। অর্থাৎ,আমলের দিক থেকে সে যে দাবি করে যে সে মুসলিম এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে — তা তার কাজে পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয় না, কিন্তু তার ঈমানের মূল তার অন্তরে আছে। অর্থাৎ সে একধরনের পাপী। এ কারণে তার ঈমান বা ইসলাম বাতিল হয় না। সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায় না, সে প্রত্যাখ্যাত হয় না। কিন্তু অন্যান্য পাপীর মতো সে শাস্তির যোগ্য। আবার সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে না এবং সুপারিশকারীদের সুপারিশে তার জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এ ধরনের মুনাফিকী হলো বড় মুনাফিকীর দিকে প্রথম ধাপ, এবং কেউ যদি এই পথে চলতে থাকে তাহলে এটি তার অভ্যাসে পরিণত হয়। সে যদি এই পথে চলতেই থাকে এবং এটি তার অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে হয়তো সে বড় মুনাফিকীতে পতিত হবে।

এর কিছু উদাহরণ কী? মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা, আমানত খিয়ানত করা, অতিরিক্ত তর্কপ্রিয়তা, চুক্তি ভঙ্গ করা, এবং কিছু কাজ আংশিকভাবে দেখানোর জন্য করা (যেমন কেউ দেখছে বলে বিশেষভাবে সুন্দরভাবে/যত্নসহকারে সালাত পড়া, তাদের অনুমোদন বা তাদের কাছ থেকে বড় দান পাওয়ার আশায় — আল্লাহর জন্য নিষ্ঠাবানভাবে সালাত পড়া থেকে ভিন্ন, যা মূল উদ্দেশ্য হয়েই থাকে)। কেউ দেখলে এক টাকা বেশি, পাঁচ টাকা বেশি, দশ টাকা বেশি দেয় — এ ধরনের মুনাফিকীও ছোট মুনাফিকী।

চার লক্ষণের হাদিস:

আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন: চারটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকে, সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে এগুলোর কোনো একটি বৈশিষ্ট্য থাকে, তার মধ্যে নিফাকের একটি বৈশিষ্ট্য থাকে, যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে। যখন তাকে আমানত দেওয়া হয়, সে খেয়ানত করে; যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে; যখন চুক্তি-অঙ্গীকার করে, তা ভঙ্গ করে; আর যখন তর্ক করে, সত্য থেকে সরে যায় (মিথ্যা ও বাতিল কথা বলে)।

📜 বুখারী (৩৪), মুসলিম (৫৮)

আশ্চর্যের বিষয় — আপনি যার সঙ্গেই তর্ক করবেন দেখবেন সে মিথ্যা যুক্তি দিচ্ছে। সে তর্ক করছে। সে এমন যুক্তি দিচ্ছে যা যৌক্তিক নয়। কিন্তু তাকে সেটা বোঝানো যায় না। সে তার ভুল যুক্তি দিয়েই যাবে। অধিকাংশ মানুষের অবস্থা এই।

হাদীস: মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি

আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন, মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে, আর যখন তাকে আমানত দেওয়া হয় সে খেয়ানত করে।

আপনি কেবল সম্পদের আমানত দেখবেন না। কাজের আমানত দেখুন। আমানত অনেক প্রকার। একজন ব্যক্তি যখন কোনো কোম্পানিতে বা কোনো অফিসে বা কারও অধীনে কাজ করে, তখন তাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটিই তার আমানত। আলিমগণ এসব বিষয়ে কতটা সতর্ক ছিলেন! আপনাদের একটি ঘটনা বলি-

  • শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ (সৌদি আলিম): কথিত আছে, যখন তাকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং ব্যক্তিগত ফোন কল করার প্রয়োজন হতো, তিনি বাইরে গিয়ে একটি পাবলিক ফোন বুথে যেতেন এবং কলটি নিজে অর্থ প্রদান করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিফোন ব্যবহারের পরিবর্তে — যুক্তি দিয়ে যে ফোনটি তাকে কঠোরভাবে সরকারী দায়িত্বের জন্য অর্পণ করা হয়েছিল, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নয়। এটা প্রতিফলিত করে যে আলিমরা এমনকি অর্পিত দায়িত্বের ছোট বিষয়গুলোকেও কতটা গুরুত্ব সহকারে রক্ষা করতেন।

    সাহাবীরা মুনাফিকীকে ভয় পেতেন –

  • হানযালা ও আবু বকরের হাদিস: হানযালা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু বকরকে বললেন, “হানযালা মুনাফিক হয়ে গেছে!” চমকে গিয়ে আবু বকর জিজ্ঞাসা করলেন তিনি কী বোঝাতে চান। হানযালা ব্যাখ্যা করলেন: রাসূল ﷺ-এর সাথে থাকাকালীন, তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের কথা বলতে শুনে, মনে হয় যেন তা সরাসরি দেখা যাচ্ছে, এবং অন্তর আধ্যাত্মিকভাবে উন্নীত হয় — কিন্তু পরিবার ও পার্থিব বিষয়ে ফিরে গেলে, সেই অবস্থা ম্লান হয়ে যায় এবং এর অনেকটাই ভুলে যাওয়া হয়। আবু বকর স্বীকার করলেন তিনিও একই ওঠানামা অনুভব করেন। তারা একসাথে নবী ﷺ-এর কাছে গেলেন, যিনি সুন্দরভাবে আশ্বস্ত করলেন: “যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, যদি তোমরা সবসময় সেই একই অবস্থায় থাকতে, ফেরেশতারা তোমাদের বিছানায় ও রাস্তায় হাত মেলাত — কিন্তু হে হানযালা, এটাই মানুষের স্বভাব: কখনো স্মরণ করা, কখনো ব্যস্ত থাকা।” এই ওঠানামা স্বাভাবিক, নিজে মুনাফিকী নয় |
     নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুব সুন্দর সাতটি নির্দেশনা দিয়েছেন যে আমাদের অন্তর যেন সবসময় আল্লাহভীতি, আল্লাহর স্মরণ এবং পূর্ণ আনন্দে পরিপূর্ণ থাকে। এ কারণেই আমাদের অন্তরকে বারবার রিচার্জ করতে হবে। আপনি ফোন চার্জ দেন না, ফোন বন্ধ হয়ে গেছে — এখন কেঁদে লাভ নেই। আমরা আমাদের অন্তর রিচার্জ করি না। আমরা দীর্ঘ সময় গাফিলতিতে কাটাই। তারপর আমরা আমাদের অন্তর নিয়ে অভিযোগ করি। আমাদের অন্তরে আল্লাহভীতি অনুভব করি না। গুনাহ থেকে দূরে থাকার জন্য ভালো কাজের প্রেরণা পাই না। আলস্য আমাদের গ্রাস করে। আমরা গুনাহ থেকে দূরে থাকতে পারি না। কেন? কারণ আমি আমার অন্তর রিচার্জ করছি না। তাই আমাকে একটু একটু করে অন্তর চার্জ দিতে হবে। কারণ অবস্থা সবসময় একরকম থাকবে না। এটাই স্বাভাবিক।

হাদীস :

হানযালা আল-উসাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন – তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর লেখকদের একজন – তিনি বলেন, একদিন আবু বকর (রাঃ) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, হে হানযালা! তোমার কী অবস্থা? আমি বললাম, হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! তুমি কী বলছ! আমি বললাম, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে থাকি, তখন তিনি আমাদেরকে জাহান্নাম ও জান্নাতের কথা এমনভাবে স্মরণ করান, যেন আমরা তা চোখের সামনে দেখছি। কিন্তু যখন আমরা তাঁর কাছ থেকে বের হয়ে যাই, তখন আমরা স্ত্রী-সন্তান ও জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, ফলে অনেক কিছু ভুলে যাই। তখন আবু বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, আমরাও তো এমন অবস্থার সম্মুখীন হই। এরপর আমি ও আবু বকর (রাঃ) একসঙ্গে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে গেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, কী ব্যাপার? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যখন আপনার কাছে থাকি, আপনি আমাদেরকে জাহান্নাম ও জান্নাতের কথা এমনভাবে স্মরণ করান, যেন আমরা তা চোখের সামনে দেখছি। কিন্তু যখন আপনার কাছ থেকে বের হয়ে যাই, তখন আমরা স্ত্রী-সন্তান ও জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, ফলে অনেক কিছু ভুলে যাই। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, যদি তোমরা সর্বদা আমার কাছে থাকাকালীন অবস্থার মতো এবং যিকিরে স্থির থাকতে পারতে, তাহলে ফেরেশতারা তোমাদের বিছানায় এবং পথেঘাটে তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হাত মেলাত। কিন্তু হে হানযালা! কিছুক্ষণ স্মরণ আর কিছুক্ষণ ব্যস্ততা (এটাই স্বাভাবিক)। তিনবার বললেন।

📜 মুসলিম (২৭৫০)

ইবনে আবি মুলাইকা উল্লেখ করেছেন যে নবী ﷺ-এর ত্রিশজন সাহাবী প্রত্যেকেই নিজেদের জন্য মুনাফিকীর ভয় পেতেন — তাদের কেউই দাবি করেননি তাদের ঈমান জিবরাইল বা মিকাইল ফেরেশতার মতো সম্পূর্ণ। নিজের ঈমান সম্পর্কে এই বিনয় ও আত্ম-সতর্কতা নিজেই অনুসরণ করার একটা মডেল।

হাদীস :

ইবনু আবি মুলাইকা বলেন, আমি নবী ﷺ-এর ত্রিশজন সাহাবীকে পেয়েছি, তাঁদের প্রত্যেকেই নিজের ব্যাপারে নিফাকের ভয় করতেন। তাঁদের মধ্যে কেউই বলতেন না যে, তিনি জিবরীল ও মীকাঈলের মত ঈমানের অধিকারী।