দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: নামাজ প্রতিষ্ঠা করা (ইউকীমুনাস সালাহ)

ইকামাহ শব্দটি মানে নামাজ “প্রতিষ্ঠা” করা, শুধু “আদায়” করা নয় |

      
ইকামাতুস সালাহ মানে সঠিকভাবে –

      ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু):

  • ফরয কাজগুলো আদায়
  • রুকু-সিজদা-তিলাওয়াত পরিপূর্ণ করা
  • খুশূ, গুরুত্ব ও আগ্রহ সহকারে আদায় করা |

    হাসান আল-বাসরী: 
  • অযু
  • রুকু সিজদা
  •  খুশূ
  • যথাসময়ে সালাহ  আদায় করা

    কাতাদাহ:
  •  অযু
  • রুকু, সিজদা
  • ওয়াক্তের হেফাযত করা 

    এখান থেকে একটি আত্মপর্যালোচনা আসে: আমাদের মধ্যে ক’জন রুকু থেকে সম্পূর্ণভাবে উঠে দাঁড়িয়ে তারপর সিজদায় যায়, দুই সিজদার মাঝে ঠিকমতো বিরতি নেয়, বা হুড়মুড়িয়ে সিজদায় না গিয়ে ধীরস্থিরভাবে যায়? এমনকি সিজদার সময় দুই পা মাটিতে সমতলভাবে না রেখে তুলে রাখার মতো সাধারণ বিষয়ও অনেকের সিজদাকে অগ্রহণযোগ্য করে তোলে |

    আপনাদের একটি প্রশ্ন করি: সমাজের সবচেয়ে ভালো মানুষ কারা? এতে কোনো সন্দেহ নেই যে যারা মসজিদে যায় তারা তাদের চেয়ে ভালো যাদের মসজিদ বা সালাতের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আপনি যেখানেই মসজিদে যান, আপনি যে সংখ্যক মানুষ পান তারাই আমাদের সমাজের সবচেয়ে ভালো মানুষ। এখন, সবচেয়ে ভালো মানুষদের অবস্থা দেখুন। একটু মসজিদের দিকে তাকান এবং দেখুন আমাদের সালাতের অবস্থা কী। আমরা সালাত আদায় করার সময় অস্থির হয়ে যাই।

  • সারসংক্ষেপ: ইকামাতুস সালাহ মানে –

    • যথাসময়ে আদায় করা
    • রোকন, শর্ত ও বাধ্যতামূলক কাজগুলো আদায় করা
    • পরিপূর্ণরূপে রুকু, সিজদা, তিলাওয়াত করা
    • খুশু ও মনোযোগ সহকারে ধীরস্থিরভাবে আদায় করা

এই ব্যাখ্যাগুলো একত্রে ইকামাহ-র অন্তর্ভুক্ত করে| এই সম্পূর্ণ বিস্তারিত বিষয়ই মুত্তাকীদের সিলেবাসের দ্বিতীয় বিষয় — আর যে বিষয়ে এটি অধ্যয়ন করা হয় তার নাম ফিকহ (ফিকহশাস্ত্র), নির্দিষ্টভাবে ফিকহুল ইবাদাত

(মাওসূআতুত তাফসীর আল মাসূর)